বাংলাপ্রিয়বিভাগ
মানুষ ও উপলক্ষ

হ্যাপি (অন্যরকম) মাদার্স ডে

লেখার আকার

এখনো মা দিবসে আমার প্রথমেই সেই মানুষটার কথা মনে পড়ে। মাথার খয়েরি-সোনালি চুলগুলো হেয়ারজেলের ভারে নুয়ে আছে। আমার চেয়ে কয়েক ইঞ্চি লম্বা, বছর দশেকের বড়। দেখে অবশ্য মনে হতো লোকটার বয়স কয়েক হাজার বছর।

কানাডায় এসে প্রথম যেই ফুলটাইম চাকরিটা করতাম, সেখানে কাজ করতো। নাম জন। মাসুদ রানা বা কোথাও একটা পড়েছিলাম – ‘ধনুকের ছিলার মতো টানটান সিনা‘, বা এরকম টাইপের একটা উপমা। গায়ে গতরে জন ছিল একদম ঐরকম। নিয়মিত জিমে যেত, ফিটফাট থাকতো। একটা ছাইরঙের ওভারকোট পরিয়ে দিলে অনায়াসে ডিটেকটিভ বলে চালিয়ে দেয়া যেত।

ঝানু সেইলসম্যান ছিল, কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে বেচারার বিক্রি-ভাগ্য খুব ভালো যাচ্ছিল না। এমনকি কিছুদিন আগে আমাদের কম্পানির প্রেসিডেন্টের কাছে পারফর্ম্যান্সের জন্য ঝাড়িও খেয়েছিল। তাতে তার মুখের হাসি মিলিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু যায়নি। কারণ এমনিতেও জন কখনো হাসে না।


কোন এক মাদার্স ডে উইকেন্ডের আগের শুক্রবার। আমরা ছয়-সাতজন গোল হয়ে দাঁড়িয়ে মিটিং করছি। স্ট্যান্ড-আপ মিটিং, অফিসে মিটিং রুম বাড়ন্ত, তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই মিটিং। পনের মিনিটের জায়গায় পাঁচ মিনিটেই কাজের কথা শেষ হয়ে গেল। হাতঘড়ি দেখে আমাদের লিড ডেভেলপার খুশি খুশি গলায় বলে – ‘তো মাদার্স ডে উপলক্ষে সবার প্ল্যান কি?‘

কেউ একজন বললো মাকে নিয়ে ভালো রেসটুরেন্টে খেতে যাবে।

আরেকজন অবাক হওয়ার ভান করে বললো, ‘ও মাদার্স ডে উইকেন্ড নাকি! আমার তো মনেই ছিল না, দেখি কিছু একটা করতে হবে!’

আরেক কলিগ গদগদ হয়ে বললো, সে কেক এবং কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে মায়ের ওল্ড হোমে উপস্থিত হয়ে তাকে সারপ্রাইজ দিবে।

আমি হেভি ভাব নিয়ে বললাম – ‘এই মাদার্স ডে-ফে ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে হয়, আমাদের জন্য এভরি ডে ইজ মাদার্স ডে।‘

লিড ভাই বললেন – ‘বাহ্‌ ভালো তো! কথাটা ভুল বলো নাই। আসলেই, ওয়েস্টে অনেক ভালো ভালো ট্র্যাডিশন আর নাই। তো জন, তোমার কি প্ল্যান?‘

এমনিতে জনের এই মিটিংয়ে থাকার কথা না, ঐসময় সে সেইলসের পাশাপাশি কাস্টমার সাপোর্টের কাজ করছিল। তার উত্তরটা আমি কখনো ভুলবো না।

জন খুব মন-খারাপ একটা হাসি দিয়ে বলেছিল – ঐ একবারই আমি তাকে হাসতে দেখেছি – ‘আসলে বছরের এই দিনটা আমি চাইলেও কখনো ভুলে থাকতে পারি না। আমার মা ছিল ভয়াবহ ড্রাগ অ্যাডিক্ট। তার জন্য আমাকে আর আমার ছোট ভাইকে একের পর এক ফস্টার হোমে থাকতে হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, না জন্মালেই ভালো করতাম।‘

(ফস্টার হোম মানে টেম্পোরারি পালক ফ্যামিলির বাড়ি, সরকারের ঠিক করে দেয়া।)

আমরা কবরের নিস্তবদ্ধতা নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপর কে যেন হৃদয়হীনভাবে বললো, ‘ওকে, অন দ্যাট নোট, মিটিং শেষ।‘

তার দুই মাস পর জন আত্মহত্যা করে।


গ্রিক পুরাণে অমাতৃসুলভ এক মায়ের গল্প আছে। গ্রিক ও ইংরেজি উচ্চারণের ব্যাপক পার্থক্যের কারণে আমাকে চরিত্রগুলির নামের জন্য যেকোন একটা ভাষার উচ্চারণ বেছে নিতে হবে – আমি ইংরেজি বেছে নিচ্ছি।

রানী এলথিয়া‘র ছেলে মেলিয়েজার জন্মানোর পরপর ভাগ্যদেবীত্রয়ী আবির্ভূত হন। প্রসব-ক্লান্ত এলথিয়া ঘুমিয়ে আছে ভেবে তারা নিজেদের মধ্যে কানাকানি শুরু করেন।

একজন বলেন, ‘আমি দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি এই ছেলে বড় হয়ে বীর হবে!‘

আরেকজন বললেন, ‘হ্যা তাই তো! আমিও সেটাই দেখছি।‘

তৃতীয়জন তখন বলে উঠলেন – ‘সেটা না হয় হলো, আমি তো অন্য একটা জিনিসও দেখছি।‘

– ‘কী?‘

– ‘ঐ যে চুলায় কাঠের টুকরাটা পুড়ছে, ওটা পুড়ে গেলেই ছেলেটা মারা যাবে।‘

এই কথা শুনে এলথিয়া ধড়ফড় করে উঠে বসে। তিন ভাগ্যদেবী হাওয়ায় মিলিয়ে যান। তড়িঘড়ি করে সে জ্বলন্ত কাঠের টুকরাটা উনুন থেকে তুলে নিভিয়ে ফেলে, তারপর সযত্নে কাপড়ে মুড়িয়ে সেটা আলমারিতে রেখে দেয়।

মেলিয়েজার সত্যি সত্যি বড় হয়ে বীর হয়। শৌর্য-বীর্যে হারকিউলিসের পরই সে।


এক উৎসবে রাজা এইনিয়াস ঘটা করে সব দেব-দেবীর জন্য পূজার আয়োজন করে। কিন্তু বনদেবী আর্টেমিসের অর্চনা করতে ভুলে যায়। আর্টেমিসের অভিশাপে বিরাট এইনিয়াসের রাজ্যে একটা বন্যশূকর ভীষণ তান্ডব শুরু করে।

রাজার আদেশে মেলিয়েজার শূকরটাকে মারতে দেশ-বিদেশের বড় বড় বীরদেরকে নিয়ে একটা ছোটখাট বাহিনী তৈরি করে। এইনিয়াস আবার এলথিয়ার স্বামী এবং কাগজে-কলমে মেলিয়েজারের বাবা – যদিও জোর গুজব ছিল মেলিয়েজারের জন্মদাতা আসলে স্বয়ং দেবতা অ্যাপোলো।

অনেকের সাথে সেই কান্ডে মেলিয়েজারের দুই মামাও অংশ নেয়। তারাও বীর, স্থানীয় দুই রাজ্যের রাজা। দেশ-বিদেশের বীররা সবাই ছোটে সেই ভয়ংকর শূকরটার পিছনে পিছনে। জন্তুটা মারা পড়ে সবার সমবেত প্রচেষ্টায়; শেষ ঘা-টা মেরেছিল মেলিয়েজার, সেই অধিকারে শূকরটার ছাল সে উপহার দেয় নারীযোদ্ধা অ্যাটালান্টাকে।

মেলিয়েজারের যুক্তি ছিল, যেহেতু অ্যাটালান্টার বর্শাই শূকরটার গায়ে প্রথম বিঁধেছিল, তাই সে-ই এই ছালটার দাবীদার। তবে আসল কাহিনী হচ্ছে, অ্যাটালান্টাকে সে মনে মনে পছন্দ করতো।


ছালহীন বীরদের হিংসা হলো। মেলিয়েজারের দুই মামা সুধায়, ‘ভাগিনা, এত পুরুষ যোদ্ধা থাকতে এই গেছো মেয়েছেলেকে মহামূল্যবান চর্মটা দিলা কি মনে করে?‘

অ্যাটালান্টা বিব্রত গলায় বললো, ‘আমার ছাল লাগবে না, নিয়ে যান।‘

বীর মেলিয়েজার এত সহজে হার মানার পাত্র না। সে মামাদের সাথে তর্ক জুড়ে দিলো। তর্কের এক পর্যায়ে ছোট মামা বলে বসে – ‘ঘরে বাল-বাচ্চা ফালায়া রঙঢঙ করো, লজ্জা করে না?‘

এই গুরুতর অপমানের পর পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। উত্তপ্ত কথাবার্তা চালাচালি হয়; কে যেন অ্যাটালান্টাকে গালি দিয়ে বসে, এবং সেই সূত্রে মেলিয়েজারের হাতে রামধোলাই খায়। বীর ভাগ্নের সাথে সরাসরি পারবে না দেখে দুই মামা যুক্তি করে, রাতের বেলায় সবার অলক্ষ্যে তারা অ্যাটালান্টার তাবু থেকে ছালটা চুরি করবে।

কিন্তু মামারা ধরা খেয়ে যায়। তারা বোধহয় ভুলেই গিয়েছিল, অ্যাটালান্টাও একজন বীর। চাইলেই বীরদের তাবু থেকে ঠাস করে ছাল চুরি করা যায় না।

বিদ্রোহের দায়ে মেলিয়েজার তার দুই মামাকে হত্যা করে।


ভাই হারানোর শোকে এলথিয়া একবার মূর্চ্ছা যায়, আরেকবার নিজের ছেলে তাদেরকে খুন করেছে বলে রাগে কাঁপতে থাকে।

একসময় সে আবিষ্কার করে, কখন যেন সে আলমারিটার কাছে চলে গেছে। তার কানে বাজতে থাকে সে ভবিষ্যদ্বাণীটা – ‘ঐ যে চুলায় কাঠের টুকরাটা পুড়ছে, ওটা পুড়ে গেলেই ছেলেটা মারা যাবে। ‘

নিজের অজান্তেই সে উনুনে আগুন ধরায়। কাপড়ে-পেঁচানো টুকরাটা উলঙ্গ করে সে এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়ায়। তারপর দুই ভাইয়ের শৈশবের চেহারা স্মরণ করে সেটাকে আগুনে ছেড়ে দেয়।

এলথিয়া সম্বিৎ ফিরে পেতে পেতে কাঠের টুকরাটা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে, মেলিয়েজার মারা গেছে।


দেবীপ্রতিম। সর্বংসহা। ‘সেইফ প্লেইস‘। মাতৃময়ী।

‘মা‘ ভাবলেই আমরা মনের ক্যানভাসে নিখুঁত একটা ছবি এঁকে ফেলি। কিন্তু সবার ভাগ্য একরকম হয় না। কেউ কেউ আজন্ম মায়ের স্নেহবঞ্চিত। কারো মা অকালপ্রয়াত। কারো কারো মা থেকেও নাই।

সাংবাদিক জীবনে একবার আমার মাথায় ভূত চাপলো, আমি ক্রাইম রিপোর্টার হবো। সেই প্রচেষ্টায় রিসার্চ করতে করতে অনেকগুলি রিপোর্ট পড়ে ফেলেছিলাম, যেগুলি এত বছর পরও আমাকে দুঃস্বপ্নের যোগান দেয়।

রিপোর্টগুলির বিষয়বস্ত হচ্ছে শিশুদের যৌন নির্যাতন। বহু ঘটনা ছিল ছোট ছোট মেয়েদেরকে নিয়ে, যারা ক্লোজ ফ্যামিলি মেম্বার দ্বারা ধর্ষিত। প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশ ডাকার কাজটা করেছে প্রতিবেশী কেউ। লোকলজ্জার ভয়ে ফ্যামিলিটাই আর শেষপর্যন্ত আগায়নি।

নাবালক মেয়েকে জোর করে মা যৌন কাজে ভাড়া খাটাচ্ছে, এমন রিপোর্টও ছিল। বাচ্চা ছেলেদের ধর্ষণ-সংক্রান্ত কোন রিপোর্ট ছিল। তার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল লোকলজ্জা এবং তথ্যের স্বল্পতা।

শুধু যে সমাজের তুলনামূলক দরিদ্র স্তরগুলিতে এসব সমস্যা ছিল, তাও না – একটা রিপোর্ট ছিল এক শিল্পপতির মেয়েকে নিয়ে। ইন্টারেস্টিংলি, ঐ এক্সট্রিম রিপোর্ট কালেকশনে একটাই কেস ছিল যেটায় ভিকটিমের পরিবার নিজে থেকে মামলা দিয়েছে। সেই ভিকটিমের বাবা একজন রিকশাচালক।


আজকাল এসব নিয়ে পত্রিকায় তাও গুরুত্ব নিয়ে নিউজ হয়, যদিও ফলো-আপ হয় না।

যখনকার কথা বলছি, তখন এটুকুও হতো না। আমি এরকম একটা নিউজ ফ্রন্ট পেইজে ছাপানোর জন্য অফিসের লোকজনকে পুশ করলাম। এক হোমড়াচোমড়া মুখের উপর বলেই দিলেন – ‘এইগুলা কোন নিউজ হইলো? লাস্ট পেইজ বা মফস্বল পেইজে এক কলাম দেড় ইঞ্চি, এর বেশি না। ব্যস।‘

আমার জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কেটেছে অনলাইনে বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে চ্যাটিং করে। একটা মেয়ের কথা মনে আছে, জন-এর মতো তার মাও ছিল নেশাখোর। মেয়েটার শৈশব-কৈশোর কেটেছে নিজের ছোট দুই ভাইবোনকে তাদের মায়ের বিভিন্ন বয়ফ্রেন্ডের কাছ থেকে আগলে রাখতে গিয়ে। সেটা করতে গিয়ে সে নিজে বহুবার অ্যাবিউজের শিকার হয়।

একদিন মেয়েটা বলেছিল, ‘জানো তাশফীন, আমি খুব ভালো সেলাই করতে পারি কেন?‘

– ‘কেন?’

– ‘কারণ ছোটবেলায় আমাদের সোফাটা খুঁটে খুঁটে পরীক্ষা করতে হতো, ব্যবহৃত নিডল্‌ এর উপর আবার বসে পড়ি কিনা!’ (স্মাইলি ফেইস)

আমি ক্রাইং ইমোজি দিয়ে কিছুক্ষণ পর ওকে জিজ্ঞেস করলাম – ‘আচ্ছা কিছু মনে কোরো না, কিন্তু জীবনে তো মায়ের প্রয়োজন আছে। যাদের মা থাকে না, তোমার মতো ফাইট করে যাদেরকে বড় হতে হয়, তাদের জীবনের মা চরিত্রটা কে? সেটা কি প্রতিবেশী কেউ, নাকি সিনিয়র কোন বন্ধু, নাকি আত্মীয় …‘

– ‘না।’

– ‘?’

– ‘You become your own mother, that’s what happens.‘


শুধু যে নেশা বা ধর্ষণের কারণে মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক dysfunctional হয়, তা না।

কারো কারো মায়ের সাথের পার্সোনালিটি মেলে না।

কারো মায়ের খুব রাগ – এতটাই, যে মেরে হাড্ডি-মাংস সমান করে দেয় এমন অবস্থা।

কারো মা একটা সময়ে গিয়ে হঠাৎ পল্টি মারেন – যেমন, সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী হিসেবে সন্তানের কাউকে পছন্দ হলে, বা বিয়ের ঠিক পরপর।

কেউ কেউ মায়ের হাতেই হয়তো সেক্সিজমের শিকার। মা ছেলেকে মেয়ের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন, বা নিজের স্বার্থে ছেলের বউকে নিজের মেয়ের উপরে স্থান দেবে, বা এ জাতীয় একটা কিছু।

আবার আদর্শ মা মাত্রই যে সব চরিত্রে সফল, সেটাও না। আফটার অল, সমাজের যত মার্কামারা শ্বাশুড়ি, খালা শ্বাশুড়ি, ফুফু শ্বাশুড়ি, সতীন, সৎ মা, মহল্লার আন্টি – এরা তো আর আকাশ থেকে পড়ে নাই।


কেন এসব নিয়ে এত লম্বা একটা লেখা লিখে ফেললাম? যাকে দিয়ে শুরু করেছিলাম, সেই মানুষটার ভাষায়ই বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি।

মারা যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে জনের সাথে কফি রুমে ধোঁয়া-উঠা মগ হাতে গল্প হচ্ছিল। এমনিতে সে ছিল চুপচাপ টাইপের, কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন আমাদের মধ্যে একটা কানেকশন তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

নিজে থেকেই জন সেদিন বলছিল, ওর বাবা মারা গেছে কয়েক মাস আগে, তাকে সে খুব মিস করে। সেই বাবাই জন এবং তার ছোটভাইকে তাদের মায়ের কাছ থেকে যা একটু আগলে রেখেছিল। খুব একটা পারেনি, কারণ সে ছিল ভীষণ গরিব… এসব।

এক পর্যায়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম – ‘আচ্ছা জন, যদি কিছু মনে না করো, তোমার মায়ের সাথে কি তোমার যোগাযোগ আছে?’

– ‘না।‘

– ‘কিছু মনে কোরো না, কিন্তু তুমি কি তোমার মাকে হেইট করো?‘

– ‘না।‘

আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম কয়েক মুহূর্ত। তারপর বললাম, ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি, শুনে অবাক হলাম, ম্যান। তোমার জায়গায় আমি থাকলে হয়তো করতাম।‘

– ‘ওয়েল, তুমি তো আমার মতো করে জীবন দেখো নাই।‘

– ‘বুঝলাম না, একটু এক্সপ্লেইন করবা?‘

জানালার বাইরে থেকে শীতের সূর্য আলতো করে আমাদের স্পর্শ করে। জন সেটা দেখে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।

তারপর অন্যমনস্কভাবে বলে – ‘আমার জীবন থেকে আমি একটা জিনিসই শিখেছি, বুঝলা। নিজের সিচুয়েশনে দাঁড়িয়ে বলা সহজ, অমুক এটা ঠিক করলো না, বা ঐটা এভাবে করতে পারতো…. কিন্তু কার মোটিভেশন কি, কার ব্রেইন কেমিস্ট্রি কি, সেসবের ককটেল করলে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়.… ঐসব নিয়ে আমরা ভাবি না। ইউ নৌ, হিসাবটা আসলে খুব সিম্পল।‘

‘সেই হিসাবটা কী?‘

‘সেই হিসাবটা হচ্ছে, আমি একজন মানুষ, আমার মা-ও একজন মানুষ।‘

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। সকলেই মঙ্গল লাভ করুক।

[সমাপ্ত]


এই লেখককে আরও পড়ুন